বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪

| ৬ আষাঢ় ১৪৩১

Campus Bangla || ক্যাম্পাস বাংলা

জিপিএ নয় নতুন কারিকুলামে মূল্যায়ন হবে সাত ধাপে

ক্যাম্পাস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:১৭, ২৩ মে ২০২৪

জিপিএ নয় নতুন কারিকুলামে মূল্যায়ন হবে সাত ধাপে

ছবি: সংগৃহীত

নতুন শিক্ষাক্রমে মূল্যায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বার্ষিক ও অর্ধবার্ষিক (ষান্মাষিক) মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সাতটি ধাপ বা স্কেলে নির্ধারণ হবে। আর ২০২৬ সাল থেকে এসএসসি পরীক্ষা হবে ডিসেম্বরে। এ সংক্রান্ত সুপারিশকে প্রাধান্য দিয়ে ‘প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল’ তৈরি করছে শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। চলতি মাসেই এ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য ঠিক করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এ সংক্রান্ত সুপারিশ চূড়ান্ত অনুমোদনের লক্ষ্যে আগামী ২৬ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত মূল্যায়ন কমিটির সভা আহ্বান করা হয়েছে। এরপর এটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য এনসিসি (শিক্ষাক্রম অনুমোদনের জাতীয় কমিটি) সভার অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

যে সাতটি স্কেলে মূল্যায়ন পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে সেগুলো হলো- প্রারম্ভিক (Elementary), বিকাশমান (Developing), অনুসন্ধানী (Exploring), সক্রিয় (Activating), অগ্রগামী (Advancing), অর্জনমুখী (Achieving) ও অনন্য (Upgrading)।

এই সাত স্কেলের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘চূড়ান্ত মূল্যায়ন সনদ/ট্রান্সক্রিপ্টে মূল্যায়নের সাত পর্যায়ের স্কেলে যোগ্যতা ও পারদর্শিতার সূচকের বিষয়টি অভিভাবক এবং অংশীজনদের অবহিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।’

মূল্যায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলাম বলেন, ‘২৬ মে মূল্যায়ন কমিটির আরেকটি সভা হবে। সেখানে অনুমোদনের পর সেটি আমরা এনসিসি সভায় অনুমোদনের জন্য উঠাবো। এটি আনুষ্ঠানিকতা।’

শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলতি মাসেই নতুন শিক্ষাক্রমের মূল্যায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত করার কথা বলা হয়েছে। সেই লক্ষ্যে ৩১ মে এর আগেই এনসিসি’র সভা আহ্বান করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড। এ বোর্ডে অনুমোদনের পর নতুন শিক্ষাক্রমের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড।

নতুন শিক্ষাক্রমে জিপিএ (গ্রেড পয়েন্ট এভারেজ) এবং নম্বরের মাধ্যমে শিক্ষার্থী মূল্যায়ন পদ্ধতি উঠে যাচ্ছে। সেখানে একজন শিক্ষার্থীর অগ্রগতি বোঝাতে নম্বর বা গ্রেডের পরিবর্তে ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ ও বৃত্ত ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে। ত্রিভুজ হচ্ছে সবচেয়ে দক্ষ বা ভালো, বৃত্ত হচ্ছে মোটামুটি ভালো এবং চতুর্ভুজ হলো- উন্নতি প্রয়োজন।

মূল্যায়ন পদ্ধতি বাস্তবায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেছেন, ‘মূল্যায়ন খুব দ্রুতসময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হবে। আমরা কিছুদিনের মধ্যেই এনসিটিবি থেকে মূল্যায়নের ম্যানুয়াল পেয়ে যাবো। সেটি পেলেই আমাদের কার্যক্রম শুরু হয়ে যাবে।’

কীভাবে মূল্যায়ন হবে সেটির একটি ম্যানুয়াল এনসিটিবি তৈরি করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেটি এই মাসের মধ্যে আমাদের দেওয়ার কথা। এটি সরবরাহ করা হলেই বোর্ডের কাজ পুরোদমে শুরু হয়ে যাবে।’

মূল্যায়নের ওপর সারা দেশের শিক্ষকদের বিভিন্ন স্তরে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে জানিয়ে তপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমরা সমস্ত টায়ারে প্রশিক্ষণ দেবো। সেটার, মডারেটর, পরীক্ষক, প্রধান পরীক্ষক, ইনভিজিলেটর....সমস্ত টায়ারে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।’

নতুন শিক্ষাক্রমে (কারিকুলাম) প্রথমবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালে। এ পরীক্ষার নাম ও মূল্যায়ন পদ্ধতির ধরন ঠিক করতে গত ৫ মার্চ ১৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ কমিটির সদস্যরা এ পরীক্ষার নাম ‘মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি)’ রাখার পক্ষে মতামত দিয়েছেন।

প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির শুরুতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়ে আসছে। ২০২০ সালে কোভিড মহামারীর পর এই পরীক্ষার সূচি কিছুটা পেছানো হয়েছে। কিন্তু নতুন শিক্ষাক্রমে এভাবে গতানুগতিক এই পরীক্ষা আর থাকছে না। বছরের শেষ দিকে অর্থাৎ ডিসেম্বরেই এসএসসি পরীক্ষা হবে।

এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি বলেন, ‘আগামী বছর যারা দশম শ্রেণীতে উঠবে তাদের এসএসসি পরীক্ষা নতুন কারিকুলাম অনুযায়ী হবে। সেই হিসেবে বছরের শেষেই এসএসসি পরীক্ষার বিধান। অর্থাৎ ডিসেম্বরেই পরীক্ষা হবে।’

মূল্যায়ন পদ্ধতি বাস্তবায়নের বিষয়ে মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে, ‘চূড়ান্ত মূল্যায়ন পদ্ধতি ও গাইড লাইনের আলোকে নৈপুণ্য প্ল্যাটফর্মের হালনাগাদ করা যেতে পারে এবং এ বিষয়ে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা যেতে পারে।’

সেই আলোকেই মূল্যায়ন বা পরীক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট সবস্তরের কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের নতুন করে প্রশিক্ষণ দেবে শিক্ষা বোর্ডগুলি।

১৯৬২ সাল থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা হয়ে আসছে। নতুন শিক্ষাক্রমের বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার পর এসএসসি পরীক্ষা থাকবে নাকি উঠে যাচ্ছে সেই বিষয়ে নানা রকম আলোচনা হয়ে আসছিল।

চলতি শিক্ষাবর্ষে ৮ম ও ৯ম শ্রেণীতে নতুন শিক্ষাক্রমে পাঠদান শুরু হয়েছে। এবার ৮ম ও ৯ম শ্রেণীতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে।

২০২৩ শিক্ষাবর্ষে প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীতে নতুন শিক্ষাক্রমে পাঠদান শুরু হয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে দ্বিতীয়, তৃতীয়, অষ্টম ও নবম শ্রেণীতে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এরপর ২০২৫ সালে পঞ্চম ও দশম শ্রেণী, ২০২৬ সালে একাদশ এবং ২০২৭ সালে দ্বাদশ শ্রেণীতে এই শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন হওয়ার কথা রয়েছে।

খবর: সংবাদ

এজেড