সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬

| ২৮ পৌষ ১৪৩২

Campus Bangla || ক্যাম্পাস বাংলা

উত্তরে শীতের দাপট কমেনি, শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:৪৮, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

উত্তরে শীতের দাপট কমেনি, শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত

রংপুর বিভাগের আট জেলায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত আছে। হিমেল বাতাস শীতের তীব্রতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। রবিবার রংপুর বিভাগের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিভাগের বাকি সাত জেলায় ৯ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে এসেছে তাপমাত্রা। সূর্যের মুখ দেখা গেলেও রোদের কোনও তাপ নেই। তিন-চার ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হচ্ছে না সূর্যের আলো।

এদিকে, শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিউমোনিয়া, সর্দিজ্বর, কোল্ড ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগবালাই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাঁচ জন বয়স্ক নারী-পুরুষ এবং চার জন শিশুসহ নয় জন শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের সর্দার অফিসের কর্মী মমতাজ উদ্দিন।

রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকাল ৬টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৭, নীলফামারীর সৈয়দপুরে ১০, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১০, দিনাজপুরে ৯ দশমিক ৮, রংপুরে ১০ দশমিক ২, নীলফামারীর ডিমলায় ১০, ঠাকুরগাঁয়ে ৯ দশমিক ৫, লালমনিরহাটে ১০ এবং গাইবান্ধায় ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সূর্যের মুখ দেখা গেলেও তা স্থায়ী থাকছে দুই থেকে তিন ঘণ্টা। বেশির ভাগ জেলায় মধ্যরাত থেকে বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ছে। ফলে সারাদিনেই রংপুর বিভাগে হিমেল বাতাস প্রবাহিত হওয়ার কারণে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এদিকে, রংপুর বিভাগীয় প্রশাসকের দফতর সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগের আট জেলায় শীতার্ত মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র বরাদ্দ করার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট দফতরকে চাহিদাপত্র দিলেও প্রয়োজন অনুযায়ী বরাদ্দ আসেনি। বরাদ্দ মিলেছে অনেক কম। বার বার তাগাদা দেওয়ার পরেও কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে শীতবস্ত্রের অভাবে সহায়-সম্বলহীন মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। শীতবস্ত্রের অভাবে সহায়-সম্বলহীন মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।

শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রংপুর বিভাগের আট জেলায় ভাইরাস জ্বর, নিউমোনিয়া, কোল্ড ডায়রিয়া সর্দিজ্বর, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগবালাই বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ চিকিৎসাকেন্দ্র রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আউটডোরে প্রতিদিন শত শত শিশু শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসছে। হাসপাতালের আউটডোরে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে স্বজনরা ভিড় করছেন।