রাজধানীর মিরপুর কলেজে অনিয়মের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের আয়োজন চলছে। নিয়োগ প্রদানের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তি। প্রাথমিক বাছাই করা হয়েছে প্রার্থীও। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও এর মাধ্যমে খন্ডকালিন শিক্ষকদের চাকরি নিয়মিত করার আয়োজন করেছেন অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ উঠেছে, খন্ডকালিন হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এ শিক্ষকদের স্থায়ী করার কাম্য যোগ্যতা নেই অনেক চাকরিপ্রার্থীর। কলেজটির বিতর্কিত এ নিয়োগ স্থগিত করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর ও মাউশিতে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর অভিযোগে বলা হয়, সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এনটিআরসিএ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি লংঘন করে একটি কুচক্রী মহল অবৈধ ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষের যোগসাঁজসে এই নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিগত আওয়ামী সরকারের সময় অবৈধ ও নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু খন্ডকালীন শিক্ষককে স্থায়ী করতে উঠে পড়ে লেগেছে এই চক্রটি। আর এতে মোটা অংকের অর্থের লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কলেজটিতে অনিয়মের দায়ে বরখাস্ত হওয়া সাবেক অধ্যক্ষ গোলাম ওয়াদুদের বিভিন্ন দুর্নীতি ও তার সময়ে সকল নিয়োগের দুর্নীতির বিষয়ে দুদকে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। এরপরেও শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের আয়োজন থেমে নেই।
জানা যায়, নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা খণ্ডকালীন শিক্ষকদের বয়স শিথিল করে নিয়োগের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা ১৩ টি পদের জন্য কলেজ থেকে আবেদন করা খন্ডকালীন শিক্ষকের প্রত্যেকেরই খন্ডকালিন নিয়োগও অবৈধ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এই নিয়োগ প্রার্থীদের প্রত্যেকের বয়স ৩৫ বছর পার হয়েছে। এছাড়া তাদের এনটিআরসিএ সনদের মেয়াদও (০৩ বছর) পার হয়েছে। চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে বিভাগীয় প্রার্থীদের বয়সসীমা শিথীলের যে কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালার পরিপন্থী বলে জানা গেছে।
কলেজটিতে অবৈধভাবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ায় কলেজটির অর্থনৈতিক অবস্থা একেবারে নাজুক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। একের পর এক অপ্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কারণে ইতোমধ্যে কলেজটির একাডেমিক শৃঙ্খলা,শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ও পরীক্ষার ফলাফলে ব্যাপক ধ্বস নেমেছে।
নিয়ম বহির্ভূতভাবে শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. বাসেত ঠাকুর বলেন, এসব শিক্ষককে সৃষ্ট পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তাদের জন্য সরকারের এমপিওর প্রয়োজন হবে না। তবে এই শিক্ষকদের নিয়োগের যোগ্যতা না থাকা, বা নিয়োগকালীন সময়ে অনিয়মের প্রমাণ থাকার ব্যাপারে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
