মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

| ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০

Campus Bangla || ক্যাম্পাস বাংলা

নেকাব না খোলায় সাক্ষাৎকার নেননি শিক্ষকরা, ইবিতে প্রতিবাদ

ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮:৪০, ২১ জানুয়ারি ২০২৪

নেকাব না খোলায় সাক্ষাৎকার নেননি শিক্ষকরা, ইবিতে প্রতিবাদ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এক ছাত্রীর সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষায় নেকাব না খোলায় সাক্ষাৎকার নেননি শিক্ষকরা। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফুঁসে উঠেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। 
রবিবার (২১ জানুয়ারী) দুুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে মানববন্ধন করেছে ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার নেতাকর্মীরা। 
মানবন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী অংশ নেন। এসময় আন্দোলনকারীরা ঘটনার তদন্তপূর্বক জড়িতদের আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে চার দফা দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়। 
উপাচার্য না থাকায় উপ-উপচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান স্মারকলিপি গ্রহণ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।
মানবন্ধনে ছাত্র আন্দোলনের সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য মু. নাঈম উদ্দিন, ইবি শাখার সভাপতি মুহাম্মাদ আল আমিন, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন রাহাত, সাংগঠনিক সম্পাদক  আল-ইমরান, প্রশিক্ষণ সম্পাদক  মু. সাজ্জাদ সাব্বির, প্রকাশনা দফতর সম্পাদক নেয়ামাতুল্লাহ আল ফারিসসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, এক ছাত্রীকে নেকাব না খোলায় বিভাগীয় সেমিস্টার ফাইনালের ভাইভা থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ও নাগরিক অধিকার হরণ করার নামান্তর। পর্দা মুসলিম নারীর রক্ষাকবচ ও আত্মপরিচয়ের হাতিয়ার। নারীর অধিকারের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের এমন নগ্ন হস্তক্ষেপ ও কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদেরকে চরমভাবে আঘাত করেছে। একইসঙ্গে সংবিধানের ধর্মীয় স্বাধীনতার বিধানকে লঙ্ঘন করা হয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখবেন বলে আশা করি।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ ডিসেম্বর বিভাগটির ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের সাক্ষাৎকারে নেকাব পরে অংশ নেন এক ছাত্রী। এসময় পুরুষ শিক্ষকদের সামনে নেকাব খুলতে অস্বীকৃতি জানান এবং প্রয়োজনে নারী শিক্ষকদের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করতে অনুরোধ করেন। তবে এই অস্বীকৃতির কারণে তার ভাইভা নেওয়া হয়নি। সাক্ষাৎকারের বোর্ডে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী আখতার হোসেন, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি শিমুল রায়, পরীক্ষা কমিটির সভাপতি উম্মে সালমা লুনা ও বিভাগের শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ছিলেন।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই কাজটি উচিত হয়নি। আমাদের সামনেও অনেকসময় এ রকম শিক্ষার্থীরা থাকে আমরা সবসময়ই নারী শিক্ষকের মাধ্যমে তাদের আইডেনটিফাই করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে তাদের (শিক্ষকদের) পেনাল্টি হতে পারে।’

এজেড