‘মেধা, সততা ও দেশপ্রেমে গড়ি আগামীর বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে গতকাল। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে রাজধানীতে স্বাগত র্যালির আয়োজন করা হয়। সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হওয়া এই র্যালি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহবাগে গিয়ে এক সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। প্রধান আলোচক ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় দাওয়াহ সম্পাদক শাহ মাহফুজুল হক এবং সাবেক কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান।
নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বক্তব্যে বলেন, ছাত্রসমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীকে পরিণত হয়েছে ছাত্রশিবির। শত জুলুম ও নির্যাতনের পাহাড় পাড়ি দিয়ে ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও সাহসিকতার সাথে মোকাবিলা করে ছাত্রশিবির এক অপরাজেয় কাফেলায় পরিণত হয়েছে। আমরা একটি সমৃদ্ধ, ইনসাফভিত্তিক ও আদর্শিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে বদ্ধপরিকর।
এই শাহবাগ থেকেই ছাত্রশিবিরের প্রথম কেন্দ্রীয় সভাপতি মীর কাসেম আলী ও দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় সভাপতি কামারুজ্জামানকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তি ভারতীয় আদিপত্যবাদের ছকে শাহবাগে মব সৃষ্টি করে ভুয়া বিচারের মাধ্যমে শহীদ করেছিল। সময়ের পরিক্রমায় সেই খুনি ও জালিম শক্তিকে পরাজিত করে ছাত্রশিবির আজ সেই একই শাহবাগে সগৌরবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে।
তিনি বলেন, গঠনমূলক কাজের মাধ্যমেই ছাত্রশিবির ছাত্রসমাজের হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছে এবং এই কাফেলাই আগামী দিনে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিবে, ইনশাআল্লাহ। এআগামী নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার মাধ্যমে একটি ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ গঠন করার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে বক্তারা ঐতিহাসিক শাহবাগের স্মৃতিচারণ করে বলেন, এই শাহবাগ থেকেই ছাত্রশিবিরের প্রথম কেন্দ্রীয় সভাপতি মীর কাসেম আলী ও দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় সভাপতি কামারুজ্জামানকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তি ভারতীয় আদিপত্যবাদের ছকে শাহবাগে মব সৃষ্টি করে ভুয়া বিচারের মাধ্যমে শহীদ করেছিল। সময়ের পরিক্রমায় সেই খুনি ও জালিম শক্তিকে পরাজিত করে ছাত্রশিবির আজ সেই একই শাহবাগে সগৌরবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। সত্যের এই পুনরুত্থান প্রমাণ করে যে, জুলুম করে আদর্শকে স্তব্ধ করা যায় না; বরং শাহাদাতের রক্তে রঞ্জিত হয়েই এই কাফেলা আজ আরও বেশি শক্তিশালী ও সংহত। আমরা তাদের শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা কামনা করি। সমাবেশে শহীদ আবু সাঈদ, আবরার ফাহাদ এবং ওসমান হাদীর আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে তাদের হত্যার যথাযথ বিচার দাবি করা হয়।
ছাত্রসমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীকে পরিণত হয়েছে ছাত্রশিবির। শত জুলুম ও নির্যাতনের পাহাড় পাড়ি দিয়ে ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও সাহসিকতার সাথে মোকাবিলা করে ছাত্রশিবির এক অপরাজেয় কাফেলায় পরিণত হয়েছে।
- কেন্দ্রীয় সভাপতি
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক জাহিদ আহসান, গণতান্ত্রিক ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মেহেদী হাসান মাহবুব, ছাত্রশিবিরে কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, মানবসম্পদ ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, ছাত্র অধিকার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম এবং ফাউন্ডেশন সম্পাদক আসাদুজ্জামান ভূইয়া।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক হাফেজ ডা. রেজওয়ানুল হক, শিল্প ও সংস্কৃতি সম্পাদক হাফেজ আবু মুসা, কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সেক্রেটারি ও জাকসু জিএস মাজহারুরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর পূর্ব সভাপতি ও ডাকসু পরিবহণ সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি হেলাল উদ্দিন এবং ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় অফিস ও পাঠাগার সম্পাদক নূর মুহাম্মদ প্রমুখ।
