বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমার এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট করেছে। যারা মায়েদের সম্মান করে না তারা এখন মিছিল করছে। ইতর শ্রেণি না হলে কেউ এ কাজ করে। ওদের দুষ্কর্মের কারণে যেসব মায়েরা কষ্ট পেয়েছেন তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শেরপুর শহরের শহীদ দারোগা আলী পার্কে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তরুণদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতির বাঁক পরিবর্তনের দিন। যুবকদের হাতে বাংলাদেশ তুলে দিতে চাই, তৈরি হয়ে যাও যুবক বন্ধুরা। এ বাংলাদেশের ভার তোমাদের বহন করতে হবে। বৈষম্য, অন্যায়, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মানুষ খুন, মায়ের ইজ্জত নষ্টকারীদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘রাজনীতির নাম যদি মানুষ খুন হয়, সেই রাজনীতি আমরা ঘৃণা করি। একটি দল চব্বিশ পরবর্তী সময়ে মাত্র সতেরো মাসেই নিজেদের দুই শতাধিক লোককে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এমন রাজনীতি আমরা চাই না। জামায়াতে ইসলামী এমন একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা চায়, যেখানে তুচ্ছ কোনও বিষয়কে কেন্দ্র করে হানাহানি হবে না, নোংরা রাজনীতি হবে না এবং মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি হবে না। আমরা এমন একটি দেশ গড়তে চাই, যেখানে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে।’
শেরপুরে সংঘর্ষে নিহত দলীয় নেতা মাওলানা রেজাউল করিম হত্যার বিচার দাবি করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে মাওলানা রেজাউল করিমকে হত্যা করা হয়েছে। অবিলম্বে বিএনপির হামলায় নিহত হওয়া জামায়াত নেতা শহীদ রেজাউল করিমের হত্যার বিচার করতে হবে। এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।’
কৃষির উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই এলাকার মানুষের কিছু দাবি আমার কাছে এসেছে। এখানে কৃষি খুব স্বয়ংসম্পূর্ণ। এটাকে ধরে রাখতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় করতে হবে। সেটি হবে কৃষি বিদ্যালয়। তবে আগে হবে মেডিক্যাল। ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের কোনও জেলা মেডিক্যাল থেকে বাদ পড়বে না। এরপর যোগাযোগের জন্য রেললাইন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।
‘আগামী ১২ তারিখ প্রথমে “হ্যাঁ” ভোট এরপর ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিবেন। “হ্যাঁ” মানে আজাদি।’
এর আগে রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৫৬ মিনিটে তিনি হেলিকপ্টারে করে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার গোপালখিলা স্কুল মাঠে পৌঁছান। এরপর তিনি গত ২৮ জানুয়ারি ঝিনাইগাতীতে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে নিহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমের বাড়িতে যান। সেখানে তিনি নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং পরে মাওলানা রেজাউল করিমের কবর জিয়ারত করেন।
