বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪

| ৬ আষাঢ় ১৪৩১

Campus Bangla || ক্যাম্পাস বাংলা

নোবিপ্রবিতে পানির সংকট যেন নিত্য সমস্যা, স্থায়ী সমাধান দাবি

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩:২৬, ১৮ মে ২০২৪

নোবিপ্রবিতে পানির সংকট যেন নিত্য সমস্যা, স্থায়ী সমাধান দাবি

পানি সংকট নিত্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি)। সম্প্রতি টানা ৩২ ঘন্টা নোবিপ্রবির বিবি খাদিজা হলে দেখা দিয়েছে পানি সরবরাহে সমস্যা। সংশ্লিষ্টদের দায়সাড়া কর্মকান্ডের কারণে এমন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।

জানা গেছে, শনিবার (১৭ মে) বিবি খাদিজা হলে দুপুর থেকে পানি সরবরাহ পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরা হলে গিয়ে পানির সংকটে ভোগান্তিতে পড়েন। একদিকে তীব্র গরম আর অন্যদিকে পানির না থাকায় তা চরম আকার ধারণ করে। তাছাড়া অন্য সময়েও পানির সংকটে ভুগতে হয়। হলের প্রথম ব্লকের কক্ষগুলোতে পানি থাকলেও শেষের ব্লকের কক্ষগুলোতে পানি থাকে না। এই নিয়ে হল প্রশাসনকে এর আগে জানানো হলেও তারা ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানায় হল শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিবি খাদিজা হলের এক ছাত্রী জানায়, শুনেছি পাইপ ফেটে যাওয়ায় পানির সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। পাইপ ফেটেছিলো শুক্রবার কিন্তু শনিবারেও পানি আসে নি। শুনেছি হল প্রশাসন নাকি লোকের অভাবে কাজ শুরু করতে পারেনি। তারা যদি আন্তরিকতা দিয়ে দেখতো তাহলে এই সমস্যাটা খুব দ্রুতই সমাধান হয়ে যেত। এখন পানি আসবে আসবে বলছে কবে আসবে কেউ জানে না।”

বিবি খাদিজা হলের আরেক শিক্ষার্থী জানায়, “পানির সমস্যা বলতে গতবছরও এইটা হয়েছিলো। গরমের সময় আসলে তো ইলেকট্রিসিটি থাকে না বাইরে। তো আমাদের হলগুলোতে পানি আসে বাইরে থেকে। এখন খাদিজা হলের পানির লাইনগুলো এমনভাবে করা যে পানি আগে সামনের ব্লকে যায় এরপর পিছনের ব্লকে আসে। দেখা যায় সকালে ক্লাসে যাওয়ার সময় পানি নাই আবার দুপুরে এসেও পানি নাই। মাঝে যেই সময় হঠাৎ অল্প একটু আসে তখন যারা থাকে তারা পায় বা অনেক সময় দেখা যায় জানেও না। গতবছর পুরো গ্রীষ্মকাল এইভাবেই গেছে। সব হলে পানি থাকলেও খাদিজা হলের পিছনের ব্লকে দেখা যায় নাই। প্রভোস্টকে জানানো হইছিলো কাজ হয় নাই। এইবারও গতকাল দুপুরে হঠাৎ দেখা যাচ্ছে পানি নাই। অনেক সময় দেখা যায় ট্যাংক ভর্তি হয়ে পানি ৪-৫ ঘন্টা অবধি পড়তেই থাকে নষ্ট হয়। আবার কখনো পানি নাই-ই।”

শুধু বিবি খাদিজা হলই নয়, এর পাশাপাশি ছাত্রীদের  বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলেও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, বঙ্গমাতা হলে হঠাৎ করে পানি গায়েব হয়ে যায়। কোন সময় সকালে তো কোন সময় বিকালে পানি থাকে না। ওয়াশরমে পানি থাকলে আবার বাথরুমে পানি থাকে না।

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের এক শিক্ষার্থী জানায়, “সকাল ১০টা থেকে ৩টা পর্যন্ত পানি ছিলো না, গতপরশু ও সকাল ১০ টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত পানি ছিলো না।কোনধরনের নোটিশ ছাড়া পানির এই সংকটের কারণে আমরা খুবই কষ্টে আছি। আমাদের এই কষ্ট দেখার কি কেউ নেই? ”

একই হলে আরেক শিক্ষার্থীও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ গত কয়েকদিন ধরে হুট করে ওয়াশরুমের পানি চলে যায়। বেশি হয় সকাল আর বিকালবেলা। কোন বলা নেই, কওয়া নেই, ঘন্টার পর ঘন্টা পানি থাকে না। তাহলে স্টাফরা করেন কি? এতগুলো মেয়ে কিভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা পানি ছাড়া থাকবে! হঠাৎ হলে একটা কথা কিন্তু প্রতিদিনই এমন হচ্ছে। কালকে আমার সেমিস্টার পরীক্ষা। কারেন্ট নাই, পানি নাই। এভাবে কি একটি হলে থাকা যায়?”

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিবি খাদিজা হলের প্রভোস্ট ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “গতকাল হলের পানির পাইপ ফেটে যাওয়ার ফলে বেশিরভাগ পানি বাইরে বের হয়ে যায়, যার কারণে হলে পানি আসেনি। গতকাল শুক্রবার বন্ধ ছিলো আর রাত হয়ে  গিয়েছিলো। কারেকশন বড় ছিলো যার কারণে গতকাল ফিক্সড করা সম্ভব হয়নি। তবে শনিবার সকাল থেকে ওরা কাজ শুরু করে আর এখন পানি হলে আসছে।” 

তবে পিছনের ব্লকে পানি না পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, “ আমি এই বিষয়ে অবগত আছি আমাদের হলে পানি আসে সব একাডেমিক ও হলগুলোই পানি আসার পর। যার কারণে সবার শেষে পানি পাওয়ার ফলে অনেক সময় দেখা যায় হলের পেছনের ব্লকে পানি থাকে না। এখন যদি পানির নিরবিচ্ছিন্ন সংযোগ দিতে হয় তাহলে নতুন করে পাইপলাইন টানা লাগবে যা হয়তো এই মুহুর্তে সম্ভব না। তাই আমার শিক্ষার্থীদের একটু কষ্ট করতে হবে।”

এদিকে বঙ্গমাতা হলের প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান অভিযোগের প্রেক্ষিতে বলেন, “পানির মটরে সমস্যা হওয়ার কারণে এমনটা হচ্ছে। আমরা এটি ঠিক করার উদ্যোগ নিয়েছি।”

কবে নাগাদ ঠিক হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ এটা ডিপিটি বলতে পারবে ওরা এখনো আমাদের জানায়নি। একটা মটর ঠিক করা হয়েছে আরেকটার কথা ওদের বলা হয়েছে কালকে এসে ওরা দেখবে, দেখে বলতে পারবে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী প্রকৌশলী শান্তু মজুমদার জানান, “ বিদ্যুতের ভোল্টেজ বার বার আপডাউন করার জন্য আসলে এ সমস্যা গুলো হচ্ছে। আমরা ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ  বিভাগকে চিঠি দিয়েছি এ সমস্যা নিরসনের জন্য।”

এজেড