বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪

| ৬ আষাঢ় ১৪৩১

Campus Bangla || ক্যাম্পাস বাংলা

শিক্ষক নেতা কাওছারের চাকরিচ্যুতির আদেশ প্রত্যাহার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:৪০, ২৭ এপ্রিল ২০২৪

শিক্ষক নেতা কাওছারের চাকরিচ্যুতির আদেশ প্রত্যাহার দাবি

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়করণ দাবিতে আন্দোলনে নের্তৃত্ব দেওয়া সবুজ বিদ্যাপীঠ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শেখ কাওছার আহমেদকে ম্যানেজিং কমিটির বরখাস্তের সিদ্ধান্ত ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ)। একইসঙ্গে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক এ সিদ্ধান্ত অনুমোদনের প্রতিবাদ ও বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

শেখ কাওছার আহমেদ বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি’র (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

সকালে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি অধ্যক্ষ মো. বজলুর রহমান মিয়া এ দাবি জানান। তিনি বলেন, সারাদেশের শিক্ষক-কর্মচারীরা মনে করেন, মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ২২ দিনের আন্দোলনের যারা বিরোধিতা করেছিলেন, অধ্যক্ষ শেখ কাওছার আহমেদকে বরখাস্ত করার পেছনে তাদের গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জাতীয়করণ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণেই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিভিন্ন অভিযোগ এনে বরখাস্ত করা হয়েছে জনপ্রিয় শিক্ষক নেতা শেখ কাওছার আহমেদকে। তারা অবিলম্বে এ বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার জানিয়েছেন।

বিটিএ নেতাদের দাবি, শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা মোতাবেক প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে অধ্যক্ষ শেখ কাওছার আহমেদ কর্তৃক এসএসসি পরীক্ষা ২০২৪ এর জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ ফি বাবদ বিজ্ঞান বিভাগে ২১৪০ টাকা এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে বোর্ড নির্ধারিত ২০২০ টাকা জমাদানের নোটিশ দেন। তা সত্ত্বেও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এখতিয়ার পাল্টা নোটিশ দিয়ে তার মনঃপূত লোক অফিসে বসিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিনা রশিদে ফরম পূরণ ফি বাবদ বিজ্ঞান বিভাগে ৮১৪০ টাকা এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৮০২০ টাকা গ্রহণ করেন। আদায়কৃত প্রায় ১৭ লাখ টাকা সভাপতি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে নিজেই আত্মসাৎ করেছেন।

এছাড়া ২০২৩ সালে বিদ্যালয়ের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠানে কিছু সংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সভাপতি তার পছন্দের প্রার্থী নিয়োগদানের জন্য পরীক্ষার উত্তরপত্র পরিবর্তন করে নিয়োগ দিয়েছেন। এমনকি প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক স্বাক্ষরিত নিয়োগপত্র দেওয়ার বিধান থাকা সত্ত্বেও সভাপতি নিজেই স্বাক্ষর করে নিয়োগপত্র প্রদান করেন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির উপদেষ্টামণ্ডলীর অন্যতম সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য বাবু রঞ্জিত কুমার সাহা, সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মো. আবুল কাশেম, সহ-সভাপতি আলী আসগর হাওলাদার, বেগম নুরুন্নাহার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবু জামিল মো. সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সবুজ বিদ্যাপীঠ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শেখ কাওছার আহমেদকে সাময়িক বরখাস্ত করে ম্যানেজিং কমিটি। ওই বছরের ২৯ নভেম্বর তাকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়। পরে চলতি বছরের ৪ এপ্রিল তাকে চূড়ান্ত বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে শিক্ষা বোর্ড।
 

এজেড