ছবিতে খয়েরি শার্ট পরিহিত সাইদুল ইসলাম
নীলফামারী জেলা সদরে রামগঞ্জ টেকনিক্যাল (ভোকেশনাল) স্কুলের শিক্ষক সাইদুল ইসলাম। শিক্ষকতা তার পেশা হলেও নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে অন্যের জমিতে দালালি করা। স্কুলে সময় না দিয়ে অন্যের জমি কেনা-বেচাঁর মধ্যস্থতা করেই মজা পান তিনি, করেন উপরি ইনকামও।
এতে সাইদুল ইসলাম আর্থিকভাবে উপকৃত হলেও তার স্কুল শিক্ষকরা সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছেন। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন রামগঞ্জ টেকনিক্যাল (ভোকেশনাল) স্কুলের অন্য শিক্ষকরা।
সাইদুলের বিব্রতকর নানা কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি শিক্ষকদের।
অভিযুক্ত সাইদুলের বিরুদ্ধে নীলফামারী সদর থানায় হয়েছে সাধারণ ডায়েরি, চাঁদা দাবির অভিযোগও। থানা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
নানান অপকর্মের পরও কোনও ব্যবস্থা না হওয়ায় সাইদুলের বিতর্কিত কর্মকান্ড বাড়ছে দেদার। সাইদুলের সহকর্মী শিক্ষকদের দাবি অভিযুক্ত সাইদুল স্কুলে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ায়, স্কুলে সময় না দেওয়ায় তিনি অপরাধে জড়ানোর সময় পাচ্ছেন।
তথ্যমতে- চব্বিশের ৫ আগস্টের পর সাইদুল বেশ কিছুদিন গা ঢাকা দিলেও বর্তমানে বিতর্কিত কমকান্ড বেড়েছে তার। স্থানীয় টুপামারী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সাইদুল এখন অপরাধ ঢাকতে চলাফেরা শুরু করেছেন স্থানীয় বিএনপি অঙ্গসংগঠনের কর্মীদের সাথে। এতে বিব্রত বিএনপি নেতা-কর্মীসহ অনেকেই।
তথ্যমতে- চলতি বছরের গত ৭ জুন নীলফামারি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর সাধারণ ডায়েরি করে স্থানীয় কৃষ্ণপদ বিশ্বাস।
ডায়েরিতে তিনি উল্লেখ করেন- সাইদুল ইসলাম তার জমি দখলের চেষ্টা করিতে থাকে, একপর্যায়ে নাণনাশের হুমকি দেয়। গত ৩ জুন সকালে স্থানীয় রামগঞ্জ বাজার যাওয়ার সময় সংখ্যালঘু কৃষ্ণপদকে রাস্তায় জোরপূর্বক আটক করে ফাঁকা স্ট্যাম্পে সাক্ষর নেন তিনি। এসময় কৃষ্ণকে হত্যা, খুন, জখম করারও হুমকি দেন।
এরপর গত ২ আগস্ট অভিযুক্ত সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বরাবর চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন স্থানীয় আকতারুজ্জামান।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন- তাদের ক্রয়কৃত জমিতে অবকাঠামো নির্মাণ করতে গেলে সাইদুল ইসলামসহ অন্যরা দশ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
অভিযুক্ত সাইদুল ইসলাম রামগঞ্জ টেকনিক্যাল স্কুলের শিক্ষক হলেও নিয়মিত শ্রেণীর কার্যক্রমে উপস্থিত থাকেন না। চলতি সপ্তাহে একাধিকদিন স্কুলে খবর নিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এলাকায় অপরাজনীতি, জমির দালালি থেকে শুরু করে নানান অপকর্মে জড়িত তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার বাসিন্দা জানান, বংশ পরম্পরায় সাইদুল ইসলাম জমির দালালীতে জড়িত। এলাকার বিভিন্ন জমি বিক্রির ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগি হিসেবে কাজ করেন তিনি। এতে স্কুল ও স্কুল শিক্ষকরা সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছেন।
রামগঞ্জ টেকনিক্যাল স্কুলের শিক্ষক সাইদুল ইসলামের বিতর্কিত নানান কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে একাধিক দিন তার স্কুলে গিয়েও পাওয়া যায়নি।
